ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও বিদায়ি শোভাযাত্রার মধ্যেই দেশটির অন্তত ৮০টি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর পক্ষ থেকে এ হামলার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তারা ইরানের মূল ভূখণ্ড ও কৌশলগত দ্বীপগুলোর ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (IRGC) আক্রমণাত্মক সক্ষমতা গুড়িয়ে দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে আইআরজিসির ৬০টিরও বেশি ছোট যুদ্ধজাহাজ ও স্পিডবোট ধ্বংস করার দাবি করেছে সেন্ট্রাল কমান্ড।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি (Press TV) জানিয়েছে, দেশটির প্রধান তেল হাব খর্গ আইল্যান্ড (Kharg Island), কেশম আইল্যান্ড (Qeshm Island) এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর নগরী সিরিক ও বন্দর আব্বাসে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলায় বেশ কয়েকটি মাছ ধরার ঘাট ও বেসামরিক জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্প্লিন্টারের আঘাতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।
খামেনির দাফন অনুষ্ঠান ও উত্তেজনা
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ৬ দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শুরু হয় গত ৪ জুলাই থেকে। ৭ জুলাই ইরানের পবিত্র নগরী কোমে (Qom) লাখো মানুষের উপস্থিতিতে খামেনির জানাজা ও শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। দাফনের এই চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার মধ্যেই আমেরিকার এই আকস্মিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দুপক্ষের কড়া হুঁশিয়ারি
মার্কিন সামরিক কমান্ড এই হামলাকে " ceasefire বা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের চূড়ান্ত জবাব" হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড 'খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স' এই হামলাকে "নগ্ন আগ্রাসন" হিসেবে আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে "দাঁতভাঙা জবাব" দেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্সওআল-মনিটর